InformBD.Com
আমাদের সাইটে ভিজিট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। প্রতিটা টিউনে লাইক এবং আপনার মন্তব্য দেয়ার চেষ্টা করবেন।
 
Be a Trainer! Share your knowledge.
Post Creator Info
Contributor
Hosen Ali
Online
's Bio

যা জানেন তা অন্যদের শিখতে সাহায্য করুন। আর কোন কিছু না জানলে অগ্নিবিডি সাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন।
Home » Bangla Kobita Story's » আজ আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি গল্প নিয়ে হাজির হলাম[পর্ব-১]
আজ আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি গল্প নিয়ে হাজির হলাম[পর্ব-১]

সু-প্রিয়,ভাই/বোন- বন্দুরা আসসালামু
আলাইকুম, বন্ধুরা আশা করি সবাই ভাল
আছেন। আমি নতুন তাই আমার কোন ভুল হলে মাফ করে দিন। আমি একটি আপনাদের সামনেে গল্প  নিয়ে হাজির
হলাম।

আচ্ছা বাবা! মানুষের মাংস খেতে কেমন লাগে? আট বছরের একটা বাচ্চা মেয়ের মুখে এই ধরণের প্রশ্ন শুনে যেকোন বাবারই চমকে উঠার কথা! কিন্তু মতিন সাহেব বিন্দুমাত্রও চমকালেন না! মতিন সাহেব মিষ্টি করে হেসে তার আট বছরের বাচ্চা মেয়ে সামিহাকে উত্তর দিলেন:
-খুব খারাপ লাগে মা। অনেক গন্ধঁ আসে মানুষের শরীর থেকে। মানুষের শরীর একে বাড়েই খাবার উপযুক্ত না। এদের মাংস অনেকটা নিম পাতার রসের মতো তিতা লাগে !
-কিন্তু তুমি কী করে জানলে? তুমি কী কখনো মানুষের মাংস খেয়েছো? (সামিহা)
-হ্যাঁ মা! যখন আমি তোমার সমান ছোট ছিলাম তখন খেয়েছিলাম। খুব বাজে স্বাদ মানুষের মাংসের।
-হোক বাজে! তাও আমি মানুষের মাংস খাবো। তুমি প্লিজ এনে দাও না বাবা! প্লিজ প্লিজ প্লিজ বাবা! লক্ষী বাবা!
-আচ্ছা বাবা! কিন্তু এখনতো অনেক রাত হয়ে গেছে! এখনতো আর কোন মানুষ ঘর থেকে বের হবে না! আমার লক্ষী মেয়েটা! তুমি এখন ঘুমায়! আমি তোমায় কাল সকালে মানুষের মাংস এনে দিবো!
-প্রমিজ?
-ঠিক আছে লক্ষী বাবা! প্রমিজ।
.
বাবার সাথে এতটুকু কথা বলেই সামিহা বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সামিহা এই ধরণের ব্যবহার আগে আবির সাহেবের কাছে অদ্ভুত আর অস্বাভাবিক লাগলেও এখন তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে! কারণ মতিন সাহেব জানেন সামিহা আর ৮-১০ টা স্বাভাবিক মেয়ের মতো নয়। সামিহা জন্মের পর থেকেই বেশ অদ্ভুত রকমের আচরণ করতে শুরু করে। সামিহা জন্মের সাথে সাথেই তার মা মারা যায়। এরপরে বাড়িতে একটা আয়া রাখা হয় সামিহা জন্য। কিন্তু আয়াটা বেশিদিন টিকেনি ১৩ দিন সামিহাকে দেখাশোনা করার পর আয়াটা পালিয়ে যায়। এরপর মতিন সাহেব সামিহাকে দেখাশোনার জন্য আরো ৪-৫টা আয়া রাখেন। কিন্তু কোন আয়াই তাদের বাড়িতে টিকে না। সবাই ৩-৪ দিন সামিহাকে দেখাশোনা করেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। মতিন সাহেব তখন বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। তিনি কিছুই বুঝতে পারেন না! ভাবেন, রহস্যটা কি?! সব আয়ারা এইভাবে কিছু না বলেই পালিয়ে যাচ্ছে কেন? এরপর তিনি শেষ যে আয়াটাকে রাখেন তার দিকে ভালো করে লক্ষ রাখতে থাকেন। এরপর তিনি যা দেখলেন তা দেখে তিনি পুরোই অবাক হয়ে গেলেন। সামিহাকে যখন ল্যাকটোজেন বা এই ধরণের খাবার দেওয়া হয় তখন সে খাবার খায় না! এরপর আয়ার হাতকে ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে রাখে। ঘটনাটা দেখতে স্বাভাবিক লাগলেও ঘটনাটা মোটেও স্বাভাবিক ছিলো না! আসলে সামিহাকে অনেকটা জোকের মতো করেই ঠোঁট দিয়ে চেপে আয়াদের শরীরের রক্ত খেতো। আয়ারা প্রথমে কিছু বূঝতে পারতো না। ব্যাপারটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিতো। পরে যখন ব্যাপারটা ভালোমতো বুঝতে পারে, তখনি তারা বেশ ভয় পেয়ে যায় এবং কাউকে কিছু না বলেই এই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়! মতিন সাহেব ঘটনাটা বুঝতে পারে এবং বেশ অবাকও হন। তিনি নিজেও একজন ডাক্তার। কিন্তু তিনি তার পুরো জীবনে এই রকম অদ্ভুত বাচ্চা দেখেনি ! এরপর মতিন সাহেব এটা ভেবে ভয় পায় যে, হয়তো ঐ আয়া গুলোর মাধ্যমে এই বিষয়টা সবার মধ্যে জানাজানি হয়ে যাবে! কিন্তু অদ্ভুতভাবে মতিন সাহেব যখন সেই আয়াগুলোর খোঁজ নিতে যায় তখন জানতে পারে যে ঐ আয়াগুলো যারা সামিহাকে কয়েকদিন করে দেখাশোনা করেছিলো! তারা এই বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই যার যার বাড়িতে আত্মহত্যা করে মারা যায়। মতিন সাহেব কিছুই বুঝতে পারে না তখন! তাই ভয়ে ঐ শহর ছেড়ে এই নতুন শহরে চলে আসেন এবং এরপর থেকে বাড়িতে আর কোন আয়া বা কাজের লোক রাখেনা আবির সাহেব। তিনি নিজেই শম্মীকে লালন-পালন করে বড় করতে থাকেন। যদিও এরপর থেকে সামিহাকে ঐ অদ্ভুত রক্ত চুষে খাওয়ার ব্যাপারটা তিনি আর লক্ষ করেন নি। এরপর সামিহার যখন বয়স ১ বছর। একদিন সামিহাকে সারা বাড়ি খুঁজে পেলেন না মতিন সাহেব! এরপর খুঁজতে খুঁজতে দেখলেন সামিহাকে খাটের নিচে লুকিয়ে একটা জীবন্ত টিকটিকিকে ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে। সেদিন মতিন সাহেব সামিহাকে এই হিংস্র রুপ দেখে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলো! এরপর মতিন সাহেব প্রায়ই লক্ষ করতেন সামিহাকে সাধারণ খাবার মোটেও পছন্দ করতো না! সে বিভিন্ন সময় লুকিয়ে লুকিয়ে জীবন্ত টিকটিকি বা
ইদুঁরকে ছিড়েছিড়ে খেতো। এরপর যখন সামিহার বয়স তিন বছর তখন একদিন মতিন সাহেব লক্ষ করলেন যে সামিহার এক ধরণের অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে! যার মাধ্যমে সে যেকোন প্রাণিকে বশ করে তার কাছে আহ্বান করতে পারে। এরপর বেশ নিষ্ঠুর হয়ে ছুরি দিয়ে সেই প্রাণিগুলোকে মেরে তাদের রক্ত আর মাংস খায় সে। প্রথম কয়দিন বিভিন্ন পাখি, এরপর বেড়াল এইভাবে নানান ছোট প্রাণিদের বশ করে তাদের কাঁচা মাংস খেতো সামিহা! প্রথমে কয়েকবার মতিন সাহেবকে লুকিয়ে এসব করলেও এরপর মতিন সাহেবের সামনেই এই পৈশাচিক কাজ শুরু করে সামিহা। মতিন সাহেব নির্বাক দর্শকের মতো শুধু তাঁকিয়ে তাঁকিয়ে দেখে সে দৃশ্য ! মতিন সাহেব বুঝতে পারে না যে তার কী করা উচিত। সামিহা তার একমাত্র মেয়ে । তাই তাকে তো আর ফেলে দেওয়া যায় না। এইদিকে তার এই সমস্যাটা এতটাই অদ্ভুত আর অস্বাভাবিক যে এইগুলো মতিন সাহেব কাউকে বলতেও পারছে না। সামিহা এই অদ্ভুত আচরণ যদি সবার মাঝে জানা জানি হয়ে যায় তাহলে হয়তো তাদের বাঁচাটাই মুশকিল হয়ে যাবে সামিহাকে!! তাই এই অদ্ভুত ঘটনাটা একান্তই গোপন রাখেন মতিন সাহেব। পুরো সমাজ থেকে লুকিয়ে রাখেন তার মেয়ে সামিহাকে । যদিও সামিহাকে এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তার বয়স যতো বাড়ছে ততোই সে আরো হিংস্র আর ভয়ানক হয়ে উঠছে ! এখন সামিহার প্রায় ৭ বছর।
.
এখনো সামিহাকে স্বভাবের বিন্দুমাত্রও কোন পরিবর্তন ঘটেনি। সে এখনো টিকটিকি, ইদুঁর , গাছের পাখি, বেড়াল ইত্যাদি ছোটছোট প্রাণিকে হত্যা করে কাঁচাই ছিড়েছিড়ে খায়। সে বর্তমানে আরো বেশি হিংস্র হয়ে উঠছে! তার এখন বর্তমানে মানুষের মাংস খাওয়ার নেশা উঠেছে ! মতিন সাহেব জানেন যে, সামিহার একবার যেটার নেশা উঠে সেটা সে করেই ছাড়ে। বড্ড জেদ তার! তাও মানুষের মাংস নিয়ে মিথ্যা কথা বলে সামিহার মনযোগ নষ্ট করতে চাইছিলো মতিন সাহেব! কিন্তু কোন লাভ হলো না! সামিহা মাংসের আশা করেই রাতে ঘুমিয়ে পড়লো! মতিন সাহেব নিজেও জানেন না যে সকালে কী হতে চলেছে?! মতিন সাহেব সামিহাকে বুঝতে মাজে মধ্যে সামিহা সাথে সামিহার মতোই পৈশাচিক কথা-বার্তা বলতে থাকেন। কিন্তু তাও তিনি সামিহাকে বুঝতে পারেন না। মতিন সাহেব ভাবতে থাকেন সাত বছর বয়সের একটা মেয়ে যদি এতটা হিংস্র আর ভয়ানক হয়, তাহলে সে আরো বড় হলে কতটা ভয়ংকর হতে পারে!! এটা ভাবতেই ভয়ে তার গাঁ শিহরিয়ে উঠলো! রাত এখন প্রায় ১১ টা বাজে। বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। মতিন সাহেব জানালার পাশে বসে বসে বৃষ্টি দেখছেন। আর কাঁদতে কাঁদতে ভাবছিলেন যে, কী দোষ ছিলো তার?! কেনো ইবা তার ঘরেই এমন একটা অদ্ভূত ধরণের মেয়ের জন্ম হলো? কী পাপের সাজা এটা?! একটা বাচ্চা মেয়ের ভেতর এতটা হিংস্রতা আর নিষ্ঠুরতা আসলো কিভাবে? সামিহা কী আর কখনো সুস্হ্য হয়ে উঠবে না? সে কী আর ৮-১০ টা মেয়ের মতো স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করবে না?

গল্পটি পরবর্তী পর্বে শেষ করবো ।

মানুষ মাত্রই ভুল করে। আমার কোন ভুল
হলে
মাফ করে
দিবেন। যা জানেন তা অন্যদের শিখতে
সাহায্য
করুন। আর কোন কিছু না জানলে আমাদের
সাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন।

Read More


Post Date: March 1, 2019 Total: 99 Views

3 responses to “আজ আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি গল্প নিয়ে হাজির হলাম[পর্ব-১]”

  1. Hosen Ali Hosen Ali
    Contributor
    says:

    এডমিন ভাইরা আমি নতুন তাই আমার কোন ভুল হলে মাফ করে দিবেন। আর কোন কোন জায়গায় ভুল হয়েছে বলে দিবেন পরবর্তী পর্বে তা আমি সংশোধন করার চেষ্টা করবো।

  2. Hosen Ali Hosen Ali
    Contributor
    says:

    আমি আশা করি আপনারা সাফল্য পাবেন ভাই।

  3. Moznu Hosen Moznu Hosen
    Administrator
    says:

    নিয়মিত নতুন নতুন পোষ্ট করেন। আর আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply on AgneeBD.Com

You must be to post comment.

HIDE AgneeBD.Com - Info Center
Copyright © 2018 All rights reserved.