InformBD.Com
আমাদের সাইটে ভিজিট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। প্রতিটা টিউনে লাইক এবং আপনার মন্তব্য দেয়ার চেষ্টা করবেন।
 
Be a Trainer! Share your knowledge.
Post Creator Info
Contributor
The Famous S A
Online

This author may not interusted to share anything with others
Home » Bangla Kobita Story's » অসাধারন একটি গল্প এক্ষুনি পড়ে নিন
অসাধারন একটি গল্প এক্ষুনি পড়ে নিন

তুই কি উঠবি, না কি
এখানেই গোসল করাব!
কথাটা কানে যাওয়া
মাত্রই লাফ দিয়ে বিছানা
থেকে উঠলাম।
আপনারা ভাবতে পারেন, এ
কে? যার কথা শুনে ঘুম থেকে
লাফ দিয়ে উঠতে হল। তবে,
আপনারা যা ভাবছেন তা
না, এটা আমার এলার্জি বৌ
আনিকা। যার তিব্র রাগের
ফলে নিজের অভাগা
স্বামীকে তুইতোকারি শুরু
করে দিয়েছে। অবশ্য এটা ওর
অভ্যাস, রাগ উঠলেই
তুইতোকারি শুরু করে দেয়।
আমি চোখ দুটো কচলাতে
কচলাতে, রমনীর দিকে
চেয়ে থাকলাম।
– বাজার কে করবে?
– কেন তুমি!
– কি?
– না, আমি !
– এক্ষণি বাজারে যাবি?
– না গেলে!
– ট্যাং লুলা করে ঘরে
বসিয়ে দেব!
আমি হতবম্ভ হয়ে জলহস্তীর
দিকে চেয়ে রইলাম।
কিছু বলার ভাষা নেই। একে
জলহস্তী বলব না তো কি
বলেন, নিজের স্বামীকে
লুলা করবে।
– কি রে যাবি?
– কথা খানা একটু মিষ্টি
করে বলা যায় না!
– মিষ্টির ষষ্টি পূজা করি!
– একজন মুসলিম হয়ে পূজা
করতে বলছ।
– তুই যাবি!
অগত্যা আমাকে মুহূর্তের
মধ্যে বাজারের উদ্দেশ্যে
রওনা হতে হল। বিয়ে করে
জীবনটা এভাবে
তেনাহেচড়া
হয়ে যাবে জানলে,
সারাজীবন চিরকুমার থেকে
যেতাম।
বাজারে গিয়েই তরকারির
দোকানে প্রবেশ করলাম।
– কি ভাই,এত সকাল সকাল
বাজারে বৌ কি তাড়াইয়া
দিছে?
নির্বাক দৃষ্টিতে
সবজিওয়ালার দিকে চেয়ে
রইলাম।
আমার যে কিছুই বলার নাই।
– এই ছোট্ট ভাইকে চা এনে
দে?
আমি সবজিওয়ালার পাশেই
একটা চৌকিতে গিয়ে বসে
পরলাম।
– ভাই,আমারও সেইম অবস্থা।
বৌয়ের তাড়ায় প্রতিদিন
সকাল সকাল আসতে হয়।
– আপনি?
– হ্যা। কিন্তু আমিও আমার
বাবার সন্তান, দিছি?
– কি?
– বৌরে শিক্ষা দিলাম আর
কি?
– কি দিলেন?
– ওই তো আর একটা বিয়া করুম
বলছিলাম,
– তারপর…….
– এখন আমি যা কই, সে তাই
করে!
যাক, সবজিওয়ালা বুদ্ধি
খানা খারাপ বলেনি।
দেখি আমার কপালে কি হয়।
বৌটা যা করতেছে আজকাল
তা বলে বুঝাতে পারব না।
ওই তো সেইদিন জন্মদিন
হিসেবে একটু চুমু খেতে
বলেছিলাম, বলে কি না
এতে না কি তার এলার্জি।
মাথায় রক্ত চেপে বসল।
ইচ্ছে করছিল নিজের মাথায়
নিজেই বাইশ হাত লম্বা বাঁশ
দিয়ে মাথায় বারি মাড়ি।
আরেকদিনের কথা,
ছুটির দিন থাকায়, আমি
আরাম আয়েশে সকালে
ঘুমাচ্ছিলাম তখনই এলার্জির
চুলকানি শুরু, মানে
চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিল।
– কি হয়েছে?
– বাজার থেকে
করলা,লালশাক, পটল নিয়ে
এসো?
– আর আলু আনবো না?
– না!
– কেন?
– আমার এলার্জি আছে।
এ কি মানুষ না কি এলার্জি
গোডাউন। ইচ্ছে করছিল
এলার্জি নামক এই রোগটা
দুনিয়া থেকে উচ্ছেদ করে
দেই। কিন্তু ওই কপাল থাকলে
যা হয়!!!!
বাসায় এসেই, নিজেকে
একজন পুরুষ পুরুষ টাইপের করার
চেষ্টা করলাম। বুকের ভিতর
সাহস জমিয়ে বৌকে
ডাকদিলাম।
– বৌ, ও বৌ
– কোনো সাড়াশব্দ নেই।
কি হল, সাড়াশব্দ নেই কেন!
– এ কইতরীর মা!
রান্নাঘর থেকে কোনো
হাতি আসার পায়ের শব্দ
পাচ্ছি। যার ফলে বিছানায়
লেপটা জড়য়ে শুয়ে আছি।
– কি ডাকলি?
– কই কিছু না তো!
– আমি স্পষ্ট শুনলাম।
– তারপরও আসলে না,তাই
ডাকলাম।
– তা কিসের জন্য
ডাকাডাকি
– আমি বিয়া করুম।
– ভাল তো।
বলেই আবার রান্নাঘরে চলে
গেল।
আমি সবেমাত্র বিছানা
থেকে উঠেছি,ঠিক সেই
মুহূর্তে
পিছন থেকে বটি হাতে
আমার কলার চেপে ধরল।
– তুই বিয়ে করবি,
– হ্যা।
– দাড়া, তর বিয়ে করার
স্বাদ আমি মিটাচ্ছি।
আমি কোনোমতে ওর হাত
থেকে রক্ষা পেতে বাইরে
এসেছি। না হলে নির্ঘাত
আগামীকাল পত্রিকার
হেডলাইন হত পাষাণ বৌয়ের
হাতে স্বামী খুন।
ঠিক তিনটা বাজে,আমি
এখনও বাইরে রয়েছি।
বাসায় যাওয়ার সাহস
পাচ্ছিলাম না। কি করা
যায় এসব চিন্তাভাবনা
করছিলাম। এদিকে পেটের
অবস্থা করুন।
সকাল থেকে কিছু না পরার
জন্য পেট ডাকতে ডাকতে
হতাস হয়ে নিজের মুখ বন্ধ
করে আছে।
কি করব কিছুই ভেবে
পাচ্ছিনা। এরমধ্যে পেটের
কষ্ট দেখে, আমি নিজেই
শেষ।
অবশেষে সবকিছুর অবসান
ঘটিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে
হাটা ধরলাম।
বাসায় এসে দেখি দরজা
খোলা। আমি ভিতরে প্রবেশ
করে জলহস্তী বৌয়ের সন্ধান
করলাম। না হলে কি থেকে
কি করে বসে কে জানে।
নিজের রুমের মধ্যে উকি
দিয়ে দেখি বিছানার
বালিশ দুটো ভিজে গেছে
আর মাইয়া সেই ভিজা
বালিশ মাথায় দিয়ে শুয়ে
আছেন।
তাহলে বুঝা গেল,কাঁদতে
কাঁদতে বালিশ ভিজাইয়া
ফেলছে।
আমি তার সামনে অপরাধীর
মত নিশ্চুপে দাঁড়িয়ে
রইলাম। দেখে মনে হচ্ছে
অভিমানটা বেশি করে
ফেলেছে। এখন আমাকে সেই
অভিমান ভাঙ্গাতে হবে।
– সরি!
– ……
– দুঃখিত।
– ………।
কোনো উপায়ান্তর না
দেখে আমি অজ্ঞান হওয়ার
ভান করে রুমের মধ্যে ধপাস
করে পড়ে গেলাম।
ধপাস করে পড়ে যাওয়ার পর
এক চোখ খোলে আস্তে আস্তে
দেখি মাইয়া আমার দিকে
অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
– আফরান,,,,, আফরান!
– …… আমি না শুনার ভান করে
শুয়ে আছি।
– আফরান কথা বল!
(এক চোখ দিয়ে চেয়ে
দেখলাম, মেয়ের রিয়েকশন
কেমন। যাক অভিমানটা
তাহলে কমতেছে। আমি
ভুলভাল কিছু জপতে থাকলাম।
যার ফলে আনিকার মনে হল
আমি পাগল।
এরপর একা আমাকে তোলে
বিছানায় শুইয়ে দিল।
শক্তি তো ভালই বানাইছে
দেখি।
ঠিক তারপর আমার মাথায়
পানি ঢালতে শুরু করল।
আর আপ্রাণ চেষ্টা করল
আমার জ্ঞান ফিরানোর।
এবার তাহলে ঠিক হওয়া
প্রয়োজন না হলে আবার
কান্নাকাটি শুরু করে
দিবে।
আমি বিছানা থেকে
উঠতেই, মেয়েটা আমার
দিকে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে
রইল।
– দুঃখিত, (আমি বললাম)
– তুই তাইলে ভান করছিলি!
– কি করব, তোমার তো
অভিমান ভাঙ্গাতে
পারছিলাম না, তাই। আর
আমি তো মজা করে বলেছি!
– ……. কেঁদেই যাচ্ছে ।
– বললাম তো দুঃখিত।
– আমি নিজেই তো এসব পটল,
শাক খেতে পারিনা,
কিন্তু খেতে হয়!
– কেন?
– তোমার ডায়াবেটিস
যাতে না বাড়ে।
আমি চুপসে গেলাম, কিছু
বলার নেই। কেননা ইহা
ভালবাসার এক অধ্যায়। যা
আমার পক্ষে বুঝা সম্ভব
হয়নি।
– দুঃখিত,বুঝতে পারিনি।
– ১১৪বার কান ধরে উঠবস কর?
– এখন….
– হ্যা।
অগত্যা ১১৪ বার না,১ বার
কান ধরে উঠবস করতে হল। কি
করব, আমি তো নিরুপায়,ভুলত
আমারই।
সমাপ্তি
(প্রিয় পাঠক, গল্পটি কেমন
লাগলো লাইক, কমেন্টস করে
জানাবেন সবাই।
গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই
শেয়ার করে অন্যদের পড়ার
সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।)

Read More


Post Date: March 25, 2019 Total: 175 Views

Leave a Reply on AgneeBD.Com

You must be to post comment.

HIDE AgneeBD.Com - Info Center
Copyright © 2018 All rights reserved.